শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত: শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ২০২৬ উদযাপন করা হয়। এ দিনে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশ-জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদযোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে সাধারণ সিপাহী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কান্ডারীবিহীন জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে নেতা নির্বাচন করেছিলেন। যা ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নামে পরিচিত। এ বিপ্লব সংঘটিত না হলে দেশে মুক্তচিন্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব হতো না। গণতন্ত্র, সাম্য, মানবাধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় থেকেই এ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ও তাৎপর্য রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ ও লালন করতে হবে। একটি মানবিক, শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক ও কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো: রেজাউর রহমান। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মো: আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবু জাফর, জেলা বিএনপির আহবায়ক মো: মনিরুজ্জামান মন্টু ও জাসাসের আহবায়ক কাজী জলিল বক্তৃতা করেন।
পরে প্রধান অতিথি দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
খুলনায় দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।