শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশিত: শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)’র সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনকল্পে ইউনিয়নের বিশেষ সাধারণ সভায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রকিব উদ্দিন পান্নুকে আহ্বায়ক করে পাঁচ (৫) সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন- বাপ্পী খান, মেহেদী মাসুদ খান, মোঃ মেহেদী হাসান ও শেখ জাহিদুল ইসলাম। শনিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিয়াজের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ১১৯ জন সদস্যের মধ্যে ৬৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সংকটময় পরিস্থিতি উত্তোরণের লক্ষ্যে গঠনতন্ত্রের আলোকে সিনিয়র সাংবাদিক শামিম আশরাফ শেলীসহ একাধিক সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উদ্ভুত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, বিগত ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখ খুলনার শ্রম আদালতে শ্রম ১৭/২৪নং মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত রায়ে ২০২৪-২০২৫ সালের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা রদ করা হয়। একইসাথে রায়ের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কেইউজে’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মামলার ৬নং বিবাদী শ্রম অধিদপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, রায়ের পর এ পর্যন্ত কেইউজের কোন নির্বাচন হয়নি। রায়ের আগে অর্থাৎ, মামলা চলাকালীন বিগত ২০২৪ সালের মে এবং জুন মাসে বিরোধী দুই পক্ষের দুইটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার একটির সভাপতি নির্বাচিত হন আনোয়ারুল ইসলাম কাজল এবং সাধারণ সম্পাদক হন হুমায়ুন কবির। অপরটির সভাপতি সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট এবং সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র নাথ সেন। রায়ে যেহেতু ৩০ দিনের মধ্যে দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে সেহেতু, আদালতের দৃষ্টিতে কেইউজে’র কোন নির্বাচিত বা বৈধ কমিটি নেই বলে প্রতীয়মান হয়। যার ফলে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃত্ব শুণ্য হয়ে পড়ে। ফলে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে একটি নির্বাচিত বৈধ্ কমিটি থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এমতাবস্থায় আদালতের রায়ের পাশ কাটিয়ে সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট ও মহেন্দ্র নাথ সেন নিজেদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক দাবি করে অসৎ উদ্দেশ্যে নানা বিতর্কিত ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। তাদের এহেন কর্মকান্ডের ফলে ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ঐতিহ্যবাহী সংগঠন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন অস্থিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
সভায় বক্তৃতা করেন কেইউজে’র সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী, অমিয় কান্তি পাল, মল্লিক সুধাংশু, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ হুমায়ুন কবির, রকিব উদ্দিন পান্নু, এসএম কামাল হোসেন, আলমগীর হান্নান, শামিম আশরাফ শেলী, বাপ্পী খান, কামরুল আহসান, বিমল সাহা, মোঃ জাহিদুল ইসলাম, দিলিপ বর্মণ, এসএম ফরিদ রানা, নূর হাসান জনি, জয়নাল ফরাজী, আল মাহমুদ প্রিন্স, মেহেদী মাসুদ খান, এসএম জাহাঙ্গীর আলম, তিতাস চক্রবর্তী, গাজী মনিরুজ্জামান, হেলাল মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, দেবব্রত রায়, দেবনাথ রনোজিত কুমার, উত্তম মন্ডল, রিতা রানী দাস, এসএম জাহিদুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, এসএম বাহাউদ্দিন, খন্দকার মোঃ কবিরুজ্জামান, তুফান গাইন প্রমুখ।