বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কেসিসিতে নাগরিক সমস্যা সমাধানে কেসিসি-র ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম ও হট লাইন গঠন করা হবে

প্রকাশিত: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ ন্যায্য ও অর্ন্তভুক্তিমুলক খুলনা নগরী নিশ্চিতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহোদয়ের সাথে এ্যাকটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ জুন ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল ৫ টায় কেসিসি-র জি আই জেড কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। প্রধান অতিথি বলেন,নগরের মানুষের বহুবিধ সমস্যা। আমরা ১৩-১৪ ঘন্টা নিরলস কাজ করছি। নাগরিকদের সমস্যা জানার সাথে সাথে সমাধান করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ সেবাকে আরও বেগবান করতে কেসিসি-র ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম ও হট লাইন গঠন করা হবে। প্রধান অতিথি এ্যাকটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম এর সকল সদস্যদের কথা শোনেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী মুক্তি। বক্তারা বলেন, খুলনা শহর পূর্ব থেকেই দেশের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও খুলনা শহরে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এখানে ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। বন্যা, পানির লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, কৃষিভূমির পরিমাণ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে শহরটি পর্যুদস্ত। ফলশ্রুতিতে শহরের জনগণ ক্রমাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পরে সমগ্র দেশের সাথে স্বল্প সময়ে সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা চালু হওয়ায় খুলনায় শিল্প বিপ্লবের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা একই সাথে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি করবে। কর্মসংস্থানের বৃদ্ধির সাথে সাথে খুলনা শহরে জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে অনেক দ্রুত যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরুপ হতে পারে। সেজন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারি দপ্তরগুলোর সাথে জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
বিশ^জুড়ে জলবায়ু বিপর্যয় বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কথা অনস্বীকার্য যে, জলবায়ু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু এর ভয়াবহতা অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব। এজন্য দ্রুততম সময়ে একটি টেকসই, স্থিতিস্থাপক ও সবুজ অর্থনীতি এবং সমাজ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। নগরায়নের সাথে সাথে পরিবর্তন আসবেই। ন্যায্য নগরে অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নগর এলাকায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলি এমনভাবে গ্রহণ করা হবে যাতে করে সকল জনগণ, বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহ, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তি, ইত্যাদি নিশ্চিত হয়। এজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ, তথা তাদের চাহিদার প্রতিফলন থাকা আবশ্যক। নতুবা সামাজিক অসমতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ্যাকটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম এর উদ্দেশ্য হলো নগরের সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন,নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সকল শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহন ও মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া,সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া,সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা ও তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা,জলবায়ু বিপর্যয় রোধে কাজ করা,নগর জীবনে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা,নগরের উন্নয়নে সকল শ্রেণীর মানুষকে মতামত দেয়ার সুযোগ করে দেয়া
আজকের আয়োজন থেকে খুলনা শহরকে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে করণীয় নিরূপণে প্রয়াস নেয়া হয়েছে। সরকারের সকল সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম জনকল্যাণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত হয়। জনগণের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ব্যতীত এ সকল সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম ন্যায্য হওয়া সম্ভব নয়, কারণ একমাত্র জনগণই জানেন তাদের জন্য কোনটি প্রয়োজন। জন অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্প গৃহীত ও বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক অসমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনগণ সর্বময় ক্ষমতার উৎস। কাজেই জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোন কার্যক্রম ফলপ্রসূ হতে পারে না।
অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ এর স্বাস্থ্য অধিকার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান। এ্যাকটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম এর সমন্ময়কারী ওমর ফারুক কচি-র সভাপতিত্বে এ্যাকটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম এর সদস্য সচিব ও সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক এড, মোঃ মাছুম বিল্লাহ এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এ্যাকটিভ সিটিজেন খালিদ হোসেন,মন্নুজান মুন্নী,শামসুজ্জামান হীরা,মিকাইল হোসেন,এস এম মিজানুর রহমান,নাজমুল হাসান রনী,ফারজানা যুথি,নুর ইসলাম,মায়া প্রমুখ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন