মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশিত: সোমবার, মে ২৫, ২০২৬
নাগরিক সংবাদ ডেস্কঃ সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ৪টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মারা যান আব্দুল লতিফ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আব্দুল লতিফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তিনি বুকে ব্যথায় ভুগছিলেন। এরপর রাত ৪টা ১০ মিনিটের সময় মারা যান তিনি।
আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। কারাগারে আব্দুল লতিফের মৃত্যুর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে তিনি ওই ভবনটি ফ্লাট আকারে বিক্রি করা শুরু করেন। আইনগত জটিলতা এড়াতে উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন।
অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় আসতে পারছিলেন না। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সকালে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক খুলনার বয়রায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সাতক্ষীরা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে সাবেক পিপি ও তার ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।