রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশিত: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, “যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।” যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছ এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্ম সচিব এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাড. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মো. আবু বক্কর এমপি, যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক মো. গোলাম রসূল এমপি, মেহেরপুর জেলা আমীর মাওলানা তাজ উদ্দীন খান এমপি, নড়াইল জেলা আমীর মো. আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, লেবার পার্টির মহানগরী সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সভাপতি মুফতী শরীফ সাঈদুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কার সিদ্দিক মোড়ল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) খুলনা মহানগর সভাপতি এডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক এঁর অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে প্রেরণা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ খুলনার শিল্পীবৃন্দ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, “আমরা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।”
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” তবে তিনি বলেন, এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়; বরং দুর্নীতি, বৈষম্য, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের যুব সমাজকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, দলীয়করণ বন্ধ এবং বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। অথচ বর্তমানে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে সরকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দেশের সংকট আরও গভীর হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, জনগণের রায় ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক জোটের লক্ষ্য বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু নানা রাজনৈতিক কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার সরকার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ, নীতি- নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলে, তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির পরিবর্তে দলীয় পর্যায় থেকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে উঠছে। দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অলি আহমদ আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনতাভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রবণতা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে আরও সুস্পষ্ট ও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দেশের সংকট আরও গভীর হবে।
এলডিপি সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র চায়। সেই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এজন্য তিনি প্রয়োজনে দেশবাসীকে বর্ডারের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ আর গণভোটের সাথে বিএনপি অন্তহীন প্রতারনা করেছে। তারা তলে তলে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। গণভোটে ‘না’ এর পক্ষেই তারা প্রচারনা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং নাগরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মামুনুল হক বলেন, গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই রায়কে উপেক্ষা করে কেবল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে প্রদত্ত ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ বারবার তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের জুলাই আন্দোলন- সবকিছুর মূলে ছিল মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন। সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতেও জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের রায় ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা করা উচিত হবে না।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ˆবষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুই বছর পরও সেই আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা সরকার ও সংসদের কাছে জানতে চাই- দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই রয়েছে- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা রাজপথে যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকব।’
বিএনপির সমালোচনা করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ব্যর্থ হচ্ছে। ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় জনগণই তার জবাব দেবে।’
তিনি আরও বলেন, খুলনাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হয়েছে। কেসিসি, কেডিএ, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানো তার বড় প্রমাণ। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবা জানিয়ে বলেন, কোনো বিভ্রান্তি বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।