মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশিত: সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকতা কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন শিক্ষক একই সঙ্গে স্বপ্নদ্রষ্টা, পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণার উৎস এবং নীরব সমাজ নির্মাতা। একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি তার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, ভুলের সময়ে সাহস জোগানো এবং জীবনের কঠিন সময়ে সঠিক পথ দেখানোর ক্ষেত্রেও শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রার পেছনে কোনো না কোনো শিক্ষকের অবদান জড়িয়ে আছে। জ্ঞানার্জন, চিন্তার বিকাশ, নৈতিকতার চর্চা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষক শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেন না, একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে ‘মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার মহান দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক যখন শিশুর হাতে বই তুলে দেন, তখন তিনি শুধু একটি বই তুলে দেন না; বরং তার সামনে নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দেন। শিক্ষার্থীকে গবেষণায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে একজন শিক্ষক শুধু একজন শিক্ষার্থী তৈরি করেন না, বরং ভবিষ্যতের জ্ঞান ও উদ্ভাবনের ভিত্তি নির্মাণ করেন।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করছেন না; ভবিষ্যতের কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান, মেধা ও নিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণীতে উপাচার্য তাঁর জীবনের শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্মানিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের জ্ঞান, মেধা, নিষ্ঠা ও মানবিক প্রচেষ্টাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি এমন একটি শিক্ষা-ব্যবস্থা ও সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে শিক্ষক শুধু সম্মানিতই হবেন না, তাঁর জ্ঞান, স্বাধীন চিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীলতারও যথাযথ মূল্যায়ন হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জ্ঞান ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেবে-এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে কেক কাটা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, মানবিকতা ও নৈতিকতার চর্চায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।