শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

হাড্ডি গুড্ডি ভেঙ্গে ফেলবো, প্রয়োজনে চাকুরি করবো না

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় জুলাই প্রেমিক শিক্ষকের বক্তব্যে বাঁধাদান ও হট্টগোলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে আমরা কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, যা অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ছিল না- বক্তৃতায় এ কথা বলায় কতিপয় ফ্যাসিবাদ শিক্ষক অযাচিতভাবে কটাক্ষ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন বলে জানা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে বিতর্ক হয়েছে, জুলাইকে কেন্দ্র করে নয়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলেজের টিচার্স লাউঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মনিরুজ্জামান মোড়ল অভিযোগ করেন, জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এম এম ইমরান হোসেন তাকে কটাক্ষ করেন ও প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হলে রায়হান হোসেন ও আয়শা আবু বক্কর নামে অপর দু’ শিক্ষক ইমরান হোসেনের পক্ষ নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেন।
মনিরুজ্জামানের অভিযোগ, ইমরান হোসেন ও রায়হান আযম খান কমার্স কলেজে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। এরা সহ ৪/৫ জন কলেজে ফ্যাসিবাদচক্র। আগস্ট অভ্যুত্থানের পরে কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকায় কলেজে আসেননি। এখন স্বদর্পে কলেজে ফিরেছেন এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে কথা বলেন। সভা শেষে বের হওয়ার পর ওই ফ্যাসিবাদ শিক্ষকরা তাকে লক্ষ্য করে বলেন,“হাড্ডি গুড্ডি ভেঙ্গে ফেলবো। প্রয়োজনে চাকুরি করবো না”
অভিযোগ অস্বীকার করে এম এম ইমরান হোসেন বলেন, মনিরুজ্জামান মোড়ল প্রতিনিয়ত ঝামেলা করার চেষ্টা করেন। ব্যক্তিগতভাবে খোঁচা দিয়ে কথা বলেন। আমি একটা রাজনীতির (ছাত্রলীগ) সাথে জড়িত ছিলাম। সে জন্য নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেন। ঘটনার সময় কোন পক্ষ নেননি বলে দাবি করেন ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক রায়হান হোসেন। তিনি বলেন, ইমরান স্যার এ তর্কবিতর্ক শুরু করে। তিনি কমার্স কলেজে ছাত্রলীগ করতেন স্বীকার করে বলেন, জুলাই নিয়ে আলোচনা সভা নিয়ে কোন বিতর্ক হয়নি। আর আয়শা আবু বক্কর বলেন, উনি (মনিরুজ্জামান মোড়ল) দীর্ঘদিন যাবৎ টিচার ইমরান স্যারের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন এমপি শেখ জুয়েলের সাথে তার ছবি আছে। আজ যেভাবে প্রোগ্রামের ভেতর গালিগালাজ করেছেন তা বলার মতো না। কলেজের অধ্যক্ষ রুমা নন্দী বলেন, জুলাই সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে ঝামেলা হয়নি। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনা খুবই সামান্য। ইমরান যা করেছে ঠিক করেনি। অফিস খুললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আগস্টের পর থেকে আমরা ইমরানকে কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া এভয়েড করি।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন