বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

প্রকাশিত: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় প্রায় একই জায়গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছে ও ১৫/২০ জন বাসযাত্রী আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ও মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারমাইল নামক স্থানে এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক ড্রাইভার মুন্সীগঞ্জ জেলার মোক্তারপুর গ্রামের জিন্নাত মিয়া (৩৫), ২৫ ও ২৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত দুই বাস যাত্রী এবং দুই মোটরসাইকেল আরোহী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক গাজীর ছেলে আব্দুর রউফ গাজী (৪৩) ও একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস সরদার (২৫)। পাঁচজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি পারভেজ আহমেদ।
স্থানীয় সূত্র, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারমাইল নামক স্থানে ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রাক সাতক্ষীরায় সিমেন্ট নামিয়ে খুলনায় ফিরছিল। অপরদিকে খুলনা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে আঠারোমাইল নামক স্থানে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ট্রাকটি রাস্তার পাশে ও বাসটি রাস্তার পাশের খাদের পানির মধ্যে ছিটকে পড়ে। সংঘর্ষে ট্রাক ড্রাইভার জিন্নাত মিয়া এবং বাসের যাত্রীরা আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ট্রাকের ড্রাইভার জিন্নাত মিয়াকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটির নিচ থেকে ২৫ ও ২৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুইজনর লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি বাসটি যাত্রীতে পূর্ণ ছিল। এতে অন্তত বাসের ৪৫ জন আহত হয়েছে। তাদের নিকটস্থ সাতক্ষীরার তালা ও সাতক্ষীরার হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সি পারভেজ আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনায় দুপুরে ট্রাকের ড্রাইভার জিন্নাত মিয়া নিহত হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসের নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুইজন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের নাম, পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের নাম ও পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রায় একই স্থানে ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক গাজীর ছেলে আব্দুর রউফ গাজী (৪৩) ও একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস সরদার (২৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রউফ গাজী ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের একজন মাছের আড়তদার। মঙ্গলবার তার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসা পাশ্ববর্তী তালা উপজেলার কয়েকজন মাছচাষীর বকেয়া টাকা পৌঁছে দিতে রাত ৮টার দিকে আড়তের কর্মচারী ইউনুসকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চুকনগর বাজারে যান। টাকা পরিশোধ করে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় আঠারমাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি ছিটকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে গিযে রাস্তার উপর পড়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী
আব্দুর রউফ ও ইউনুস সরদার মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ ব্যাপারে খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি পারভেজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের লাশ তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন