শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
প্রকাশিত: রবিবার, মার্চ ২৩, ২০২৫
নাগরিক সংবাদ ডেস্কঃ খুলনা বিভাগের অসুস্থ্য, দু:স্থ ও কর্মচ্যুত বেকার সাংবাদিক ও তাদের সন্তানদের মধ্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজ মিলয়াতনে এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আব্দুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক হস্তান্তর করেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোরের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের খুলানা ব্যুরো প্রধান রাশিদুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব ও দৈনকি আমারদেশ’র খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, সাবেক সহকারী মহাসচিব ও দৈনিক মানবজমিনের যশোরের স্টাফ রিপোর্টার নূর ইসলাম, প্রেস ক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের দেশ পত্রিকার যশোর ব্যুরো চীফ আহসান কবির বাবু। সাংবাদিক ই্উনিয়ন যশোরের সভাপতি ও চ্যানেল আইয়ের যশোর প্রতিনিধি আকরামুজ্জামান ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক,৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি এস এম ফরহাদ হোসেন ও এমইউজে খুলনা’র কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যশোর, খুলনা, বগেরহাট, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় কর্মরত অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ্য সাংবাদিকদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা এবং এসব জেলার সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, তার ৫০ শতাংশও যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে দেশের গণমাধ্যম জগতে বিশাল পরিবর্তন চলে আসবে, আলোড়ন সৃষ্টি হবে’।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে কিছু প্রস্তাব আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশে ডিক্লিয়ারেশন প্রাপ্ত পত্রিকার সংখ্যা প্রায় ৩৭শ’ । যাদের অনেকের কোন অস্তিত্ব নেই। গণমাধ্যম কমিশন নিয়মিত ছাপা হয় ও বিক্রি হয় এমন মাত্র ৫২টি পত্রিকা খুঁজে পেয়েছে । এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে অন্তত দুই হাজার পত্রিকার অপমৃত্যু ঘটবে। কারণ এই ৫২টি পত্রিকা ছাড়া বাকি কোন পত্রিকাকে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকরা যদি নিজেদের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদার দিকটি এখনও উপলব্ধি করতে না পারি, তবে আগামি দিনগুলোতে আরও কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে’।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার যে স্বাধীনতা আমরা চাই, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। কেউ আজ সাংবাদিকদের ওপর খবরদারী করে না, ডিসি ধমকায় না, র্যাব থেকে ফোন আসে না। এই সুযোগে যদি আমরা দায়িত্বজ্ঞানহীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলি, আবার তা ফিরে পেতে ১৫ বছরের জায়গায় কমপক্ষে ৩০ বছরও লেগে যেতে পারে। সাংবাদিকদের এটা মাথায় রাখতে হবে’। সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে আপোষহীন হতে হবে। তবে প্রকাশিত সেই তথ্য আংশিক নয়; শতভাগ সত্য হতে হবে। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। বিগত ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার আমলে দেশের এক শ্রেণীর সাংবাদিক দালালে পরিণত হয়েছিলো। তাদের দালালীর কারনে দেশের সাংবাদিকদের মানসম্মান বরতে কিছু ছিলো না। ফ্যাসিষ্ট হাসিনার সরকার বিভিন্ন কালাকানুনের মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমকে সরকারের প্রচারযন্ত্রে পরিণত করেছিলো।
এম আব্দুল্লাহ আরো বলেন, সাংবাদিকতায় স্বাধীনতার বিষয়টি যেমন আছে, ‘দায়িত্বশীলতা, পেশাদারীত্ব, বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়গুলোও আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো ভুলে যাচ্ছি’।