শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা

প্রকাশিত: শনিবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে নিরাপদ খুলনা চাই এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ শনিবার দুপুর ১২ টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্ঠা মানবাধিকার সংগঠক, নাগরিক নেতা এস এম দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্ঠা, বিশিষ্ট নাগরিক নেতা, পরিবেশবিদ, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডঃ মোঃ বাবুল হাওলাদার। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার মোঃ আব্দুর রহমান, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক রোটাঃ আলহাজ্ব সরদার মোঃ আবু তাহের, সাংবাদিক মোসলেউদ্দিন তুহিন,সাবেক ছাত্র নেতা বেতার ব্যক্তিত্ব এস এম চন্দন, নাগরিক আইন পরিষদের ইনট্রাক্টর অ্যাডঃ মেহেদী হাসান,আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা প্রকৌঃ এস কে মাহমুদ, সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি কবি নাজমুল তারেক তুষার, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম দেলোয়ার হোসেন,সহ-সভাপতি তালুকদার মোঃ হেলালুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ সাইফুল্লাহ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মনি খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমত আরা কাকন, এস কে রানা আহম্মেদ, প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলিম, সহ প্রচার সম্পাদক মনিরা ইয়াসমিন মনি, সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক সাহানা সুলতানা, শিল্প ও বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তৈয়ব আলী, আইন ও শালিশ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডঃ তারেক শাহরিয়ার মেজবাহ, সহ-ক্রীড়া ও সাংস্কুতি বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আক্তার মীম, সহ- মহিলা বিষয়ক সম্পাদক প্রমি আক্তার লিজা, মোঃ শামীমুল হক, ইঞ্জিঃ রাসেল শিকদার, মোঃ আলাউদ্দিন শেখ ফুল মিয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ২৪ এর জুলাই পরবর্তী অদ্যাবধি খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরমে। খুলনার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হলেও এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম মোটেও সন্তোষজনক নয়। খুন, রাহাজানী, চুরি এ যেন খুলনাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই চলছে অস্ত্রের মহড়া, হত্যা, মারামারি। প্রশাসনের এত এত শাখা থাকা সত্ত্বেও আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় তারা নির্বিকার। এব্যাপারে পুলিশ, বিজিবি, যৌথবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সিভিল প্রশাসন কেউই দায় এড়াতে পারে না। এক্ষেত্রে অন্যতম স্টেকহোল্ডার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা হতাশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দল সমূহ সন্ত্রাস দমনে একদিকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে পারে অন্য দিকে সামাজিকভাবে অপরাধীদেরকে প্রতিহত করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ দলগুলো প্রশাসনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তারা তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড এবং চটকদার সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতস্ফুর্ত, আনন্দমুখর, অংশগ্রহণমূলক হওয়া অসম্ভব। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে একদিকে যেমন মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ, স্বাভাবিক জীবন যাপন সংকটে, সাথে সাথে খুলনা অঞ্চলে ব্যবসা-বানিজ্যেও ধ্বস নেমেছে মারাত্মকভাবে। এর অর্থনৈতিক নেতীবাচক প্রভাব যেমন খুলনার অর্থনীতিতে পড়ছে তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বক্তারা রাজনৈতিক দল, সচেতন মহলকেও এব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন